ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করুন
- আপলোড সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০৮:৩৯:০৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০৮:৩৯:০৪ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠে কৃষকের ঘাম ও শ্রমে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদিত হয়। অথচ সেই কৃষকই যখন নিজের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পান না, তখন বিষয়টি শুধু কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয় - এটি আমাদের কৃষি অর্থনীতি ও বাজারব্যবস্থার গভীর অসংগতির চিত্র। বর্তমানে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধানের বাজার মন্দা, অথচ চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী - এই বৈপরীত্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
কৃষকদের অভিযোগ, সংরক্ষণের অভাব, আগাম বন্যা ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ধান কালচে হয়ে যাওয়ার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে ধান কিনছেন। কোনো কোনো কৃষক ৬৫০ টাকা মণ দরেও ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ সরকারি সংগ্রহমূল্য নির্ধারিত রয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। অর্থাৎ সরকারি দামের তুলনায় অনেক কম দামে কৃষককে তার ফসল ছাড়তে হচ্ছে। উৎপাদন খরচও যেখানে উঠছে না, সেখানে কৃষকের ঘরে লোকসানের বোঝা জমা হওয়াই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে বাজারে সরু চালের দাম মণপ্রতি ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। প্রশ্ন হলো- ধানের দাম যখন এত কম, তখন চালের দাম কমছে না কেন? কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে ভোক্তার কাছে বেশি দামে চাল বিক্রির এই ব্যবধানের সুবিধা কারা নিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এতো বিপুল উৎপাদনের বিপরীতে সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন। ফলে অধিকাংশ কৃষকই সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমের বাইরে থেকে গেছেন। গুদামে ধান দিতে না পেরে তারা বাধ্য হয়েছেন স্থানীয় পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে। এ সুযোগে বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে থাকলে তা কৃষকের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
কৃষকের ধান উৎপাদনের পর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে না পারলে কৃষিতে তাদের আগ্রহ কমবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই ধানের বাজারে অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বাজার মনিটরিং জোরদার, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ বৃদ্ধি, সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমকে সহজ ও স্বচ্ছ করা এবং ধান-চালের দামের অস্বাভাবিক ব্যবধান তদন্ত করা এখন সময়ের দাবি।
কৃষককে শুধু প্রণোদনা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই হতে হবে কৃষিনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। হাওরের কৃষক বাঁচলে সুনামগঞ্জের অর্থনীতি বাঁচবে, দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে। তাই ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে কৃষকের মুখে হাসি ফেরাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়